দুর্গাপূজার ছুটির সঙ্গে বীচ কার্ণিভাল
লাখো পর্যটক বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৮-১০-২০২৬ ০২:৪২:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-১০-২০২৬ ০২:৪২:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
সনাতন ধর্মের অনুসারীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার দুই দিনের ছুটির সঙ্গে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচদিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কুয়াকাটা কার্নিভাল-২০২৬ এর জাকজমকপূর্ণ দুইদিনের উৎসব। কুয়াকাটায় তাই বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রায় তিন শ’ হোটেল-মোটেল রিসোর্টসহ দেড় শতাধিক খাবার হোটেল ও অন্যান্য অন্তত তিন হাজার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীরা উন্মুখ হয়ে আছেন।
জানা যায়, আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুইদিনের বীচ কার্ণিভালকে ঘিরে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা ও প্রচারাভিযান। বিশেষ করে, উদ্বোধনী দিনে শূন্য পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতি সৈকত পর্যন্ত বীচ ম্যারাথনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন কর্পোরেশন ইতোমধ্যে এই কার্ণিভালকে ঘিরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভা করেছে। এই আয়োজনকে ঘিরে লাখো পর্যটক-দর্শনার্থীর ভিড় জমবে কুয়াকাটায়। এই মোক্ষম সুযোগকে পুঁজি করে হোটেল মোটেল থেকে শুরু করে সকল ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। গুনছেন অপেক্ষার প্রহর। মুখিয়ে আছেন পর্যটক বরণের জন্য। পাশাপাশি বিগত বছরগুলোর লোকসানের ধকল কাটিয়ে কিছুটা হলেও ব্যবসা চাঙ্গা করার স্বপ্নে বিভোর এখন কুয়াকাটার সকল শ্রেণির ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শামীমুজ্জামান জানান, আগামী ২৩-২৪ অক্টোবর দুই দিনের কুয়াকাটা কার্নিভালকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার সদয় সম্মতি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়ের আব্দুর রহিম সাকি এমপি, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, পিরোজপুরের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সুলতানা জামান জুঁই এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড, নূরুন্নাহার চৌধুরী । বর্তমানে কার্ণিভালকে ঘিরে ইভেন্ট ভিত্তিক প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের সকল বিষয় নিয়ে প্রতিদিন একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কুয়াকাটা কার্ণিভালের প্রধান আকর্ষণ বীচ ম্যারাথন। আরো থাকছে দেশবরেণ্য ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঘুড়ি উৎসব, সেলিব্রেটিদের বীচ ক্রিকেটসহ নানা আয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারকা ও আধুনিক মানের প্রথম শ্রেণির অধিকাংশ হোটেলে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। কুয়াকাটার আধুনিক তারকামানের হোটেল প্রেসিডেন্ট পার্কের মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) এমজি মোর্শেদ খান জানান, তাঁদের হোটেলের সকল কক্ষ ২৩ তারিখ পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। তারাও আগত অতিথিদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। সিকদার ভিলাস এন্ড রিসোর্টের ম্যানেজার (প্রশাসন) শাহিন আলম জানান, তাদের ৮০ শতাংশ কক্ষ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুক্ড হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২১-২২ তারিখে কোন খালি নাই।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, দুর্গাপূজা ও কার্ণিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের এসোসিয়েশনভুক্ত ১০৫টি হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ হোটেল-মোটেল রয়েছে। যেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের আবাসন সংকুলান হবে। বাকি পর্যটকরা আশাপাশের আলীপুর-মহিপুর, কলাপাড়া উপজেলা সদর কিংবা স্থানীয়দের বাড়িঘরে অবস্থান করতে পারবেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বড় ও ভালো মানের হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ বুক্ড হয়ে গেছে। এখন মাঝারি ও ছোট মানের হোটেলগুলোতে কিছু কক্ষ খালি রয়েছে। যা সরাসরি এসে পর্যটকরা বুকিং দিতে পারবেন। তবে নিরাপত্তা বিধানে আসা পুলিশ সদস্যদের জন্য প্রত্যেক হোটেল থেকে একটি করে কক্ষ রাখা হয়েছে। লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে প্রত্যাশা করেছেন মোতালেব শরীফ।
দুর্গাপূজা ও কার্ণিভালকে ঘিরে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল পুলিশের কয়েক শ’ সদস্য আগত পর্যটকের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করবেন বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, প্রশাসনের কয়েক স্তরের সমন্বিত উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবহন সেক্টরের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটক-দর্শনার্থীও জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সেবার জন্য ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম থাকছে। অস্থায়ী টয়লেট-ওয়াশরুম থাকছে। সর্বধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কার্ণিভালকে ঘিরে।
তবে খাবার হোটেল ও অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার নৈরাজ্য নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। আগতদের কাছ থেকে এই দুই সেক্টরে গলাকাটা বাণিজ্যের একটি নৈরাজ্য সবসময়ে চলে আসছে।
তারপরও কার্ণিভাল ও দুর্গাপূজাকে ঘিরে কুয়াকাটা এখন নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে আছে। লাখো পর্যটককে বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স